পাইলস কি কেন হয় ? পাইলস কি ভালো হয় ?

পায়ু পথের রোগগুলোর মধ্যে পাইলস অন্যতম একটি জটিল রোগ। প্রাথমিক অবস্থায় সনাক্ত এবং চিকিৎসা করতে না পারলে পরবর্তীতে বড় সমস্যার দেখা দেয়। তাই এই রোগের কারণ এবং প্রতিকারে বিষয়ে সকলের স্বপষ্ট জ্ঞান থাকা খুবি জরুরী।

পাইলস কি?

পাইলস, যাকে অর্শ বা হেমরোয়েডস বলা হয়, এটি মলদ্বারের একটি রোগ।

পাইলস কেন হয়?

এটি মূলত পায়ুপথের রক্তনালীতে অতিরিক্ত চাপ পড়লে অথবা দীর্ঘদিনের কোষ্টকাঠিন্যের ফলে পায়ুপথের রক্তনালী (Veins) ফুলে গিয়ে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে। সাধারণত রক্তনালী ফুলে গিয়ে এক বা একাধিক নরম গোটা (আঙুরের মত) হয়ে থাকে যা পায়ুপথের ভিতরে অথবা বাইরে অবস্থান করতে পারে।

পাইলস কি ভালো হয় ?

জ্বি, পাইলস এর সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে শতভাগ সুস্থতা লাভ করা সম্ভব। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত করতে পারলে এবং জীবণযাপনে কিছু নিয়ম মেনে চললে খুব সহজেই পাইলস ভালো হয়ে যায়।

পাইলস এর লক্ষণ কি কি?

পাইলস হলে সাধারণত সবার ক্ষেত্রেই একি ধরণের লক্ষণ দেখা যায়। যেমন-
  • পায়ুপথে চুলকাবে (ভেতর ও বাহির)।
  • বসতে সমস্যা হবে এবং ব্যাথা অনুভব হবে।
  • পায়খানার সাথে রক্ত আসতে পারে।
  • মলত্যাগ করতে গিয়ে তাজা রক্ত বের হতে পারে।
  • পায়ু পথের চারপাশে থোকা থোকা ফোলা দেখা দেবে।

পাইলস এর লক্ষণ দেখা দিলে কি করবেন?

পাইলস এর লক্ষণ দেখা দিলে প্রাথমিক অবস্থায় ঘরোয়া কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে। যেমন:

  • আশযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
  • পায়ু পথ পরিষ্কার এবং জীবাণু মুক্ত রাখতে হবে।
  • মল যেন শক্ত না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।
  • প্রতিদিন ইসুপগুলের ভুষি ভিজিয়ে খেতে হবে, এতে মল নরম ও স্বাভাবিক হবে।
  • যদি চামড়া ফেঠে রক্ত আসে তাহলে পরিষ্কার কাপড় বা তুলো দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
  • প্রতিদিন ২বার প্রভিসেপ মিশানো পানিতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট বসে থাকতে হবে।

উপরের কাজগুলো করার পরেও যদি সমস্যা কমতে না দেখেন বা নিয়ন্ত্রণে না আসে তাহলে ডাক্তারের নিকট আসতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে ব্যাথা নাশক ঔষধ ব্যাবহার করতে হবে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করার মাধ্যমে অর্শ্ব বা পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সমস্যা অনেক বেশি হয়ে গেলে অস্ত্রপাচারের মধ্যদিয়ে সুস্থতা লাভ করা সম্ভব।


Next Post


Powered by Blogger.